ব্যবসায়ীর ২৬ টুকরো লাশ:ডিবি ও র‌্যাবের ভিন্ন তথ্য প্রকাশ

ঢাকার হাইকোর্টের সামনে প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের ২৬ টুকরো লাশ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় নিহতের বন্ধু জরেজকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে হত্যার মোটিভ ও ঘটনার বর্ণনায় ডিবি এবং র‌্যাব দুই ধরনের তথ্য দিয়েছে।

ডিবির দাবি-এটি এক ত্রিভুজ প্রেমের জটিলতা থেকে সৃষ্টি হওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ড। তাদের ভাষ্যমতে, আশরাফুল তার বন্ধু জরেজকে পরকীয়া সম্পর্ক থেকে ফেরাতে গিয়ে নিজেই শামীমা নামের এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ওই সম্পর্ক ঘিরেই দুই বন্ধুর মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং এক পর্যায়ে আশরাফুল নির্মমভাবে হত্যা হন।

অন্যদিকে শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালে র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জরেজ শামীমাকে দিয়ে আশরাফুলকে ‘ফাঁদে ফেলে’ ১০ লাখ টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করে। এর অংশ হিসেবে শামীমা এক মাস ধরে আশরাফুলের সঙ্গে ফোনে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। কিন্তু টাকা আদায়ের পরিবর্তে কীভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটল, সে বিষয়ে এখনো তাদের কাছে পরিষ্কার মোটিভ নেই।

র‌্যাব জানায়, মোটিভ নিশ্চিত হতে জরেজের বক্তব্যের অপেক্ষায় ছিল তারা। এর মধ্যেই শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে জরেজকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়া প্রবাসী জরেজ দেশে ফেরার আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুমিল্লার শামীমার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দেশে ফেরার পর তার স্ত্রী বিষয়টি টের পেয়ে আশরাফুলকে জানালে তিনজনের সম্পর্ক জটিল হয়ে ওঠে। পরে তিনজন একসঙ্গে ঢাকায় এসে ডেমরার দক্ষিণ ধনিয়ায় একটি বাসা ভাড়া নেন এবং সেখানে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

ডিবির ভাষ্যমতে, এক পর্যায়ে আশরাফুল ‘অস্বাভাবিক যৌন আচরণে’ আগ্রহ দেখালে শামীমা আপত্তি করেন। এই নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে শামীমা কৌশলে আশরাফুলের হাত বেঁধে ফেলেন এবং জরেজ হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। শামীমা স্কচটেপ দিয়ে তার মুখ বেঁধে দিলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আশরাফুল মারা যান। পরে দুই দিন লাশ বাসায় রেখে তা গুম করার পরিকল্পনা করা হয়। তারা বাজার থেকে ড্রাম, পলিথিন, চাপাতি কিনে লাশ টুকরো করে ড্রামে ভরে হাইকোর্ট এলাকায় ফেলে আসে।

অন্যদিকে র‌্যাবের বর্ণনায় ঘটনাটি ভিন্ন। তাদের তথ্য অনুসারে, আগেই ‘ব্ল্যাকমেইল পরিকল্পনা’ অনুযায়ী শামীমা আশরাফুলকে মালটার শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন এবং জরেজ বাইরে থেকে তাদের অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করেন। এরপর অচেতন অবস্থায় জরেজ আশরাফুলকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে।

দুই সংস্থা দুই ধরনের বর্ণনা দিলেও উভয়ের বক্তব্যেই মিল রয়েছে যে-শামীমা ও জরেজ হত্যার পর লাশ টুকরো করে ড্রামে ভরে হাইকোর্টের সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে কুমিল্লায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে জরেজকে গ্রেপ্তার করা হয়।

[news_photocard_button text="ফটোকার্ড দেখুন "]