তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে ১০ম দিনের শুনানি চলমান

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরানোর দাবিতে আপিলের টানা ১০ম দিনের শুনানি মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে শুরু হয়েছে। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আবেদনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া।

এর আগে গত ২১ অক্টোবর এ বিষয়ে আপিল শুনানি শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ২২, ২৩, ২৮, ২৯ অক্টোবর এবং ২, ৪, ৫, ৬ নভেম্বর টানা শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনগুলোর প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ২৭ আগস্ট আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আপিল করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রথম সংবিধানে যুক্ত হয় ১৯৯৬ সালে পাস হওয়া ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রিট খারিজ করে সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করেন।

এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ দেওয়া হলে ২০০৫ সালে রিটকারী পক্ষ আপিল করে। পরে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেন। এর ধারাবাহিকতায় একই বছর ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয় পঞ্চদশ সংশোধনী, যা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করে।

সরকার পরিবর্তনের পর ৫ আগস্ট সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্টজন রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন। পৃথকভাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ১৬ অক্টোবর এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার গত বছরের ২৩ অক্টোবর আবেদন করেন। এছাড়া নওগাঁর রানীনগরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।

[news_photocard_button text="ফটোকার্ড দেখুন "]