হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া সংঘাতের অবসানে অবশেষে মধ্য-আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি) কাতারের মধ্যস্থতায় শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে। শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় ডিআরসি ও এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী এক শান্তি চুক্তির খসড়ায় স্বাক্ষর করেছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, পূর্ব কঙ্গোর দীর্ঘ দিনের সংঘাত শেষ করার লক্ষ্যে এই খসড়া স্বাক্ষরিত হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে কঙ্গোর সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
উভয় পক্ষের প্রতিনিধি কাতারে একটি অনুষ্ঠানে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় কঙ্গোর কয়েক দশক ধরে চলা সংঘাতের অবসানে একাধিক নথিতে স্বাক্ষর করা হয়েছে। চলমান সংঘাত প্রায় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেয়ার হুমকি তৈরি করেছিল।
মার্কিন ও কাতারি কর্মকর্তারা এই খসড়াকে শান্তির পথে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে তারা সতর্ক করেছেন, চুক্তির অনেক বিষয় এখনও চূড়ান্ত হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দূত মাসাদ বুলুস বলেন, খসড়া চুক্তিটি আটটি প্রোটোকলে সাজানো হয়েছে; এর মধ্যে ছয়টির বাস্তবায়ন এখনও বাকি। তিনি জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বন্দি বিনিময় ও যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ-সংক্রান্ত প্রথম দুটি প্রোটোকলের বাস্তবায়ন ধীরগতিতে হয়েছে।
গত জানুয়ারিতে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের বৃহত্তম শহর গোমার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে প্রতিবেশী রুয়ান্ডা সমর্থিত এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী। এই সময়ে ব্যাপক গোলাগুলি ও সংঘর্ষ হয়, যার ফলে হাজার হাজার মানুষ পালিয়ে যায়। একই সঙ্গে কারাগারে আগুন ধরে কয়েক হাজার কারাবন্দি পালিয়ে যায়।
এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী গোমা শহরের খনিজ সমৃদ্ধ এলাকায় আক্রমণ চালায়, যা বহু মানুষকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করে। রুয়ান্ডা দীর্ঘদিন ধরে এ গোষ্ঠীকে সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
তবে আলোচনার মাঝেও কঙ্গোতে সহিংসতা থেমে যায়নি। শুক্রবার নর্থ কিভু প্রদেশে আইএস-সমর্থিত জঙ্গিদের হামলায় ২৮ জন নিহত হয়েছে।
কাতার এপ্রিল থেকে কঙ্গোর সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে কয়েক দফা সরাসরি আলোচনা করিয়েছে। জুলাইয়ে সংঘাত অবসানের নীতি ঘোষণায় ঐকমত্য হয়েছে। অক্টোবর মাসে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ নিয়ে চুক্তি হয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুলআজিজ আল-খুলাইফি বলেন, শনিবারের চুক্তি দুই পক্ষকে শান্তির পথে এগিয়ে নিয়েছে। তিনি আরও জানান, শান্তি জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না; এটি গড়ে ওঠে আস্থা, পারস্পরিক সম্মান ও আন্তরিক প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে।





