ঈদের ছুটিকে ঘিরে পর্যটকদের আগমনে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকতে আবারও ফিরেছে পর্যটকের পদচারণা। ঈদের ছুটিতে রোববার (৮ জুন) সকাল থেকেই সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ভিড় করেন হাজারো পর্যটক। বালিয়াড়িতে আড্ডা, আনন্দ ও ছবি তোলায় মেতে ওঠেন তারা। দীর্ঘদিনের পর্যটক-খরা কাটিয়ে কুয়াকাটায় আবারও সরব হয়ে উঠেছে পর্যটন ব্যবসা।
পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট, ঝিনুক-পসরা বিক্রেতা, ক্যামেরা সার্ভিসসহ অন্তত ১৬ পেশার শত শত ব্যবসায়ী। কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য মো. শাহিন আলম জানান, “পর্যটকদের সেবা নিশ্চিত করতে হোটেল, রিসোর্ট ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি।”
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “কুয়াকাটায় প্রায় ২০০টি আবাসিক হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির হোটেলগুলোতে ৭০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত বুকিং হয়ে গেছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির হোটেলে ৫০ শতাংশের মতো বুকিং রয়েছে।”
সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাসের এজিএম আল-আমিন উজ্জ্বল জানান, “৯-১০ জুনের বুকিং সবচেয়ে বেশি। আমাদের হোটেলগুলোতে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কক্ষ আগেভাগেই বুক হয়ে গেছে।”
খুলনা থেকে আসা পর্যটক সুমন চন্দ্র বলেন, “আমি কুয়াকাটায় আগেও এসেছি। দেশের অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রের চেয়ে এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেশি উপভোগ করা যায়। তাই বারবার কুয়াকাটায় আসি।”
পর্যটকদের নিরাপত্তায় কড়া নজরদারিতে রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ তাপস চন্দ্র রায় জানান, “সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তাদের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিমও প্রস্তুত রয়েছে।”
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের পুরো ছুটিজুড়েই কুয়াকাটায় পর্যটকের আগমন অব্যাহত থাকবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।





