মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে বড় পরিসরে ডিজেল আমদানি, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সরবরাহ চুক্তি এগিয়ে নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় বিকল্প উৎস খুঁজতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।
বার্তায় উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। চার সপ্তাহ ধরে চলমান সংঘাতে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে, যেমন নেপাল, ভুটান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ ও শ্রীলংকায় জ্বালানির দাম বেড়েছে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ফিলিপাইনে ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করা হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে আগামী দুই মাসে প্রায় ৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের (স্যাংশন ওয়েভার) প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
ভারতের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত তেল আমদানির বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। ইতোমধ্যে ২২ হাজার টন ডিজেল পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেলবাহী দুটি কার্গো বাংলাদেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
জ্বালানি সরবরাহ বহুমুখীকরণে সরকার সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, অ্যাঙ্গোলা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার ও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।





