যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি-তে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের পর এবার লোহিত সাগর বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
বুধবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখে, তবে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগরেও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলী আবদুল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করলে তা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি আরও বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এসব জলপথে কোনো ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলতে দেবে না।
অন্যদিকে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেসব জাহাজ ইরানের বন্দরে যাতায়াত করছে না, সেগুলোর চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না।
এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭.৫ শতাংশ বেড়ে ১০২.৩৭ ডলার এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৮.৩ শতাংশ বেড়ে ১০৪.৫৬ ডলারে পৌঁছেছে।
চলমান এই উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়ছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন দেশে চাপ তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে আয়ারল্যান্ড-এ জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভের পর সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর কমানোর কথা জানিয়েছে।





