কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় একটি এআই–সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশে সই স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখিত) ওই নির্বাহী আদেশে সই করার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন তিনি। এ উপলক্ষে শীর্ষ এআই কোম্পানির প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়েছিল।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, প্রস্তাবিত আদেশের কিছু বিষয় তার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এআই খাতে নেতৃত্ব ধরে রাখতে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, যা অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
ওভাল অফিসে তিনি বলেন, “আমরা চীনের চেয়েও এগিয়ে আছি, অন্য সবার চেয়েও এগিয়ে। আমি এমন কিছু করতে চাই না যা এই অগ্রগতিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।”
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী এআই কোম্পানিগুলোর জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবাভিত্তিক নীতিমালা তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল। এতে উন্নত এআই মডেল জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আগে সরকারি সমন্বয়ের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এছাড়া ব্যাংক ও হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও ছিল।
তবে কোন কোন অংশে ট্রাম্প আপত্তি জানিয়েছেন, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
এদিকে প্রযুক্তি খাতের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ হলে নতুন এআই প্রযুক্তি বাজারে আনা ধীর হয়ে যেতে পারে, যা উদ্ভাবন ও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
একই সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় কোম্পানিগুলোকে মডেল পরিবর্তন করতে হলে তা ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে বলেও মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শীর্ষ প্রযুক্তি ব্যক্তিদের চাপের পরই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এআই নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নীতি বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।





