চিত্রনায়ক সাইমন সাদিকপরিচালক জাকির হোসেন রাজুর ‘জ্বী হুজুর’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ‘পোড়ামন’ সিনেমাতে অভিনয় করে দর্শকের কাছে পরিচিতি পান।
‘আলো আসবেই’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কাণ্ডে নিজের নাম লিখেয়েছিলেন তিনি। যেখানে আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত অভিনয়শিল্পীদের একটি দল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে দমানোর জন্য নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতেন।
সেই সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে তাদের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না দাবি করে বলেছিলেন, ‘আমাকে উনারা অ্যাড রেখেছিলেন কিন্তু আমার কোনো রিয়্যাকশন ছিল না।’ তবে ‘আলো আসবেই’ গ্রুপে যারা শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ সমর্থক করে সেসব অভিনয়শিল্পীদের গ্রুপে যুক্ত করা হয়েছিল।
এদিকে যেন বিতর্ক সাইমন সাদিকের পিছু ছাড়ছে না। বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিফাত আহমেদ বচনের সাথে ঘুরতে দেখা গেছে।
যিনি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থী-জনতার উপর হামলা ও আগুনে পুড়িয়ে ২জনকে হত্যা মামলার আসামি। ভিডিওতে দেখা যায়, মধ্যরাতে অভিযুক্ত আসামি রিফাতের সাথে কারে ঘোরাঘুরির সময় খোশ মেজাজে হাসতে হাসতে কথা বলছে।
‘আলো আসবেই’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়েছিলো। যেখানে আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত অভিনয়শিল্পীদের একটি দল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে দমানোর জন্য নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতেন।
এসব স্ক্রিনশট ভাইরাল হওয়ার পরে তাদের নিয়ে সর্বমহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিলো। এর মাঝে কেউ কেউ নিজেকে জড়িত নয় বলে দাবিও করেছিলেন। সেই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন চিত্রনায়ক সাইমন সাদিক। তিনিও ছিলেন ওই গ্রুপে।আমাকে উনারা অ্যাড রেখেছিলেন কিন্তু আমার কোনো রিয়্যাকশন ছিল না দাবি করে সাইমন পোস্টে লিখেছিলেন, ‘মন্তব্য করার আগে পড়বেন প্লিজ। এটা মনে হয় জানেন, যেকোনো হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে আপনি যতজন কে খুশি অ্যাড করতে পারেন। বিষয় হচ্ছে আপনি সে গ্রুপে কি লিখেছেন বা আপনি অ্যাকটিভ ছিলেন কিনা। আপনারা মনে হয় দেখেছেন, আমাকে উনারা অ্যাড রেখেছিলেন কিন্তু আমার কোনো রিয়েকশন ছিলোনা।’
তিনি আরও লিখেছিলেন যে, ‘আমাকে বারবার ফোন করা হচ্ছিলো আমি যেন বিটিভিতে গিয়ে আন্দোলনে দাঁড়াই, আমি বারবার না করার পর বললো যে ঠিক আছে, তুমি আসতে পারবে না সেটা অন্তত গ্রুপে লিখে দাও! এটা যদি অনেক বড় অপরাধ হয় আমি অপরাধী।’
ভুল শিকার করে সাইমন বলেছিলেন, ‘আমার ভুল হয়েছে, উনারা আমাকে অ্যাড করার পর আমি কেন লিভ নিলাম না। আর আপনি বলুন তো, একই পেশার বড়রা যখন আপনাকে একটা গ্রুপে অ্যাড করতো আপনি কি করতেন? যিনি আলো আসবেই গ্রুপে থেকে স্ক্রিনশট গুলো ফাঁস করেছেন, তিনি কেন তখন লিভ নেন নাই? নিশ্চই তখন সুবিধা নেয়ার ধান্দায় ছিল।’
এদিকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত এবং সংসদ সদস্য ফেরদৌসের নেতৃত্বে সবাইকে গ্রুপে অ্যাড করা হয় যারা মূলত আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে হয়েছে।
গ্রুপে সদস্যদের তালিকায় আরও যারা ছিলেন- সোহানা সাবা, জ্যোতিকা জ্যোতি, অরুণা বিশ্বাস, ফেরদৌস ছাড়াও ছিলেন রিয়াজ আহমেদ, সুবর্ণা মুস্তাফা, আজিজুল হাকিম, স্বাগতা, বদরুল আনাম সৌদ, শমী কায়সার, তানভীন সুইটি, আশনা হাবীব ভাবনা, শামীমা তুষ্টি, জামশেদ শামীম, ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর, সাজু খাদেম, হৃদি হক, দীপান্বিতা মার্টিন, জায়েদ খান, লিয়াকত আলী লাকী, নূনা আফরোজ, রোকেয়া প্রাচী, রওনক হাসান, আহসানুল হক মিনু, পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার, এস এ হক অলীকসহ অনেকে।
এ অভিনেতা ‘আলো আসবেই’ গ্রুপ কাণ্ডে বলেছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত গ্রুপের কারো সঙ্গে জড়িত না। তবে হঠাৎ করে কীভাবে একজন হত্যা মামলার অন্যতম আসামির সঙ্গে মধ্যরাতে ঘোরাঘুরি করতে পারে তা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ যেন কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসার অবস্থা।গত বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিফাত আহমেদ বচনের সাথে ঘুরতে দেখা গেছে। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, একজন চিত্রনায়ক সাইমন সাদিক একজন আসামির সাথে এত রাতে কি করছিলেন? তাও আবার তাকে দেখতে খুব হাস্যজ্বল মুখে আনন্দ বার্তা আদান-প্রদান ও করতে দেখা যাচ্ছিলো ।





