আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে আজ রাত থেকেই দূরপাল্লার বাসসহ সব ধরনের গণপরিবহনের জন্য জ্বালানি নেওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো সীমাবদ্ধতা থাকবে না বলে জানিয়েছেন সড়ক ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে, তাই পরিবহন চলাচলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর একটি বাস টার্মিনাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, আগামীকাল থেকে সড়কপথে ঈদযাত্রীর চাপ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে আগেই গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে আজ রাত থেকেই দূরপাল্লার বাসসহ অন্যান্য গণপরিবহন প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি নিতে পারবে।
তিনি জানান, বিআরটিসির বাসগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে সেগুলো নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ছেড়ে যাচ্ছে এবং নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। পরিবহনগুলো নিয়মিত শিডিউল মেনেই চলাচল করছে।
সড়ক মন্ত্রী আরও বলেন, জ্বালানি সংকটের অজুহাতে কোথাও যাতে ভাড়া বাড়ানো না হয় বা অগ্রিম বিক্রি করা টিকিট ফেরত দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে কিছু পরিবহন জ্বালানি সংকটের কথা বলে অগ্রিম টিকিট বাতিলের চেষ্টা করলেও সরকারের নির্দেশনার পর তা বন্ধ হয়েছে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়কের যেসব স্থানে নির্মাণকাজ চলছিল সেখান থেকে নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে অন্তত দুই থেকে তিনটি লেন যান চলাচলের জন্য খোলা রাখা হয়েছে এবং চার লেনের সড়কে সব লেন সচল রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া মহাসড়কের জ্বালানি পাম্পগুলো ঈদের আগে সাত দিন এবং ঈদের পর পাঁচ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সম্ভাব্য যানজটের ঝুঁকিপূর্ণ ২০৭টি স্থানও চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএ, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, সব ধরনের প্রস্তুতি মিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যাত্রীরা যাতে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন এবং সড়কে দীর্ঘ সময় আটকে না থাকেন, সে লক্ষ্যেই সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না এবং বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারি করা হচ্ছে।





