রাউজানে ডাকাত চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার

চট্টগ্রামের রাউজানে সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকারসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, সোমবার (১৬ মার্চ) গভীর রাতে রাউজান থানার পাহাড়তলী ইউনিয়নের দেওয়ানপুর এলাকায় আহমদ হোসেন বাবুলের দুইতলা বাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ১৪ থেকে ১৫ জনের একটি দল সিঁড়িঘরের ফাঁকা স্থান দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, এমিটেশন গহনা ও মোবাইল ফোন লুট করে পালানোর চেষ্টা করে।

ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে একাধিক টিম গঠন করে অভিযান চালানো হয়। গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত আসামিদের শনাক্ত করা হয়। পরে পাহাড়তলী ও বাগোয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে একটি লকেটসহ চেইন, এক জোড়া কানের দুল, ১৩টি চুড়ি, তিনটি ব্রেসলেট, একটি হাতঘড়ি, নগদ ৪ হাজার ৯৮৪ টাকা, একটি রেডমি মোবাইল ফোন এবং স্ক্রু ড্রাইভার, প্লাস ও রেঞ্চসহ ডাকাতির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি পেশাদার ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য। চক্রটির মূলহোতা ফজর আলী ওরফে বাটন ওরফে ডিপজল ডাকাত এখনও পলাতক রয়েছে। তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকার অপরাধীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই ডাকাতির পরিকল্পনা করেন।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল আহমেদ জানান, ঘটনার দিন সকালে আসামিরা বিভিন্ন যানবাহনে চট্টগ্রামে এসে সন্ধ্যার পর আলাদা হয়ে পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলের আশপাশে জড়ো হয়ে গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে ডাকাতি সংঘটিত করে।

এ ঘটনায় রাউজান থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৫, ৩৯৭ ও ৪১২ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।