যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
আলোচনায় যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার সম্ভাবনা থমকে যাওয়ার পর গত রোববার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। এরপর সোমবার জিএমটি ১টা ৩০ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক তেল ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ১০৬.৯৯ ডলারে লেনদেন হয়।
তবে এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার প্রভাব এশিয়ার শেয়ারবাজারে খুব একটা পড়েনি। সোমবার সকালে লেনদেন শুরুর সময় জাপানের নিক্কেই 225 সূচক শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তান সফর বাতিল হয়েছে। কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।
এর আগে সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি ওমানেও যান, যেখানে ওয়াশিংটন–তেহরান আলোচনার নতুন সম্ভাবনা খোঁজা হচ্ছিল। তবে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগও বাজারে প্রভাব ফেলছে। ইরানের হুমকির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে মাত্র ১৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৯টি জাহাজ চলাচল করে।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এই রুটে যেকোনো অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।





