এপ্রিলে নির্ধারিত সময়সূচি বাতিল করে ঈদের পরপরই বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা না করে প্রয়োজনে আরও ১৫–২০ দিন এগিয়ে এনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
রোববার (১ মার্চ) রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, প্রয়োজনে বিজি প্রেসের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ঈদের পরপরই পরীক্ষা আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে, যাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যায়।
এদিকে জানা গেছে, ১০০ নম্বরের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। এ নিয়োগে ৮০ হাজারের বেশি প্রার্থী আবেদন করেছেন।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানান, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল প্রতিষ্ঠান প্রধান পদের নিয়োগ পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং এ বিষয়ে অফিস আদেশ জারির প্রস্তুতি চলছিল।
উল্লেখ্য, এবারই প্রথম এনটিআরসিএর মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। গত ২৯ জানুয়ারি অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপার পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তা চলে।
এনটিআরসিএর তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষার মধ্যে এমসিকিউ পদ্ধতিতে ৮০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ভিত্তিতে ১২ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষার জন্য ৮ নম্বর নির্ধারিত রয়েছে। লিখিত পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা, এতে ৮০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর এবং প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০ দশমিক ২৫ নম্বর কাটা হবে।
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। প্রতিটি ধাপে উত্তীর্ণ হতে আলাদাভাবে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে। প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।





