ঢাকা-১১ আসনে সহিংসতা ও ভয়ভীতির অভিযোগ নাহিদ ইসলামের

ঢাকা-১১ আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারও সহিংসতা ও ভয়ভীতি ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর রামপুরার কুঞ্জবন এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বীরা মানুষ হত্যা করে লাশের রাজনীতির মাধ্যমে নির্বাচনে জয়ের চেষ্টা করছে-যা অতীতেও দেশবাসী দেখেছে।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, তার নির্বাচনী ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়মিতভাবে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং কর্মীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন আমার কতগুলো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে, সেটা খোঁজ নিলেই বোঝা যাবে। আমার আসনেই যদি এমন পরিস্থিতি হয়, তাহলে অন্যান্য আসনের অবস্থা কেমন, তা সহজেই অনুমান করা যায়।’

এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম দ্বৈত নাগরিক। এই তথ্য গোপন করে তিনি নির্বাচন কমিশনে হলফনামা জমা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। এ বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারও সহিংস রাজনীতি ফিরে এসেছে। আওয়ামী লীগ আমলে দেখা চিত্র পুনরায় সামনে আসছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন কেন্দ্র দখল না হওয়ার নিশ্চয়তাও নেই বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান ও আইন লঙ্ঘন করে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে তা মেনে নেওয়া হবে না। সে কারণেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এ সময় তিনি বিদেশি বা আধিপত্যবাদী শক্তির সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়েও সতর্ক করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো বিদেশি শক্তি হস্তক্ষেপের চেষ্টা করলে জনগণই তার উপযুক্ত জবাব দেবে।

গণসংযোগকালে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। তারা নির্বাচনকালীন সহিংসতা বন্ধ, সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিতের দাবি জানান।