আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতের দুটি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস।
জাহাজ দুটির নাম ‘পুষ্পক’ ও ‘পরিমল’। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। সেই আলোচনার পরই ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে ওই দুই জাহাজকে যাওয়ার অনুমতি দেয়।
এর আগে বুধবার হরমুজ প্রণালিতে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজে হামলা চালায় ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। এতে জাহাজটির ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং তিন নাবিক নিখোঁজ হন।
ওই ঘটনার পর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে জানানো হয়, জাহাজটি ভারতের গুজরাট রাজ্যের কান্দলা বন্দরের দিকে যাচ্ছিল এবং নিখোঁজ তিন নাবিকের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন।
পরে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতের দুটি ট্যাংকারকে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দেয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই সৈয়দ আব্বাস আরাগচির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এস. জয়শঙ্কর।
আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বে প্রতিদিন যে তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, তার প্রায় ২০ শতাংশই এই পথ ব্যবহার করে।
মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির প্রধান রুট হওয়ায় হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’ বলা হয়। এই পথ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সহজে পশ্চিমা দেশগুলোতে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ত।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে ইরান। এ সময় কয়েকটি জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটে। ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে ১০টির বেশি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম কোনো দেশের তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিল ইরান।





