বাজেটের আগেই শিক্ষকদের উৎসবভাতা বাড়তে পারে

শিক্ষকদের উৎসবভাতা বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, উৎসবভাতা ১০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সরকারের ভেতরে আলোচনা চলছে। বাজেটের আগেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

সোমবার (৬ এপ্রিল) ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের দাবি যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হলে সরকার তা বিবেচনা করবে এবং এজন্য আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। যদিও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সীমিত বরাদ্দের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তবুও বিভিন্ন খাত সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রস্তাব বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, আর্থিক বিধি ও প্রক্রিয়ার কারণে কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবে ঈদের আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে পরে তা কার্যকর করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

সভায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা নিয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মতো মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদেরও উপবৃত্তি, মিড-ডে মিল ও পোশাকসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু পাইলট প্রকল্প চালু হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে মাদ্রাসায় এই সুবিধা ছিল না, পরে তা চালু করা হয়েছে এবং কিছু আর্থিক জটিলতা কাটিয়ে কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ বিরতির কারণে শিক্ষার্থীদের সময় অপচয় কমাতে পরীক্ষা পদ্ধতি ও সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।

ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার দিকে এগোচ্ছে, তাই বাংলাদেশকেও অনলাইন ও অফলাইন শিক্ষার সমন্বয়ে আধুনিক ব্যবস্থার দিকে এগোতে হবে।

সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ডের প্রতিনিধি ও শিক্ষক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।