যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায় এবং তেহরান সহায়তা চায়, সে ক্ষেত্রে পাশে থাকার কথা জানিয়েছে আফগানিস্তান। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বলেন, ইরানের প্রতি আফগান জনগণের সহমর্মিতা থাকবে এবং প্রয়োজন হলে সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি জানান, ইরান সাম্প্রতিক সময়ে সংযম দেখিয়েছে এবং আফগানিস্তানের প্রত্যাশা-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে যেন কোনো যুদ্ধ না বাধে। জাবিহুল্লাহ মুজাহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তান যুদ্ধ নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে গত কয়েকদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’সহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে, পাশাপাশি আরও একটি রণতরী পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানে সামরিক হামলার আশঙ্কাও করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সম্ভাব্য এ সংঘাত ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। তাদের আশঙ্কা, বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে গোটা অঞ্চলে এর মারাত্মক অর্থনৈতিক ও মানবিক প্রভাব পড়বে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলে ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী হামলা চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী। যদিও ট্রাম্প আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশা প্রকাশ করেছেন, তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মনে করছেন-এই আলোচনা সফল নাও হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে আফগানিস্তান ও ইরানের মধ্যে অর্থনৈতিকসহ সামগ্রিক সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের অবস্থানকে আরও ঘনিষ্ঠ করেছে।





