প্রকৃতির চরম বৈপরীত্যের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। বৈশাখের শুরুতেই একদিকে তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ, অন্যদিকে কালবৈশাখী ও প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টির প্রভাবে তৈরি হয়েছে দ্বৈত আবহাওয়া পরিস্থিতি।
বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম জানিয়েছে, গত ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই অস্থির আবহাওয়া আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে খুলনা বিভাগ-এ তাপপ্রবাহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এছাড়া রাজশাহী বিভাগ, বরিশাল বিভাগ ও ঢাকা বিভাগ-এর বিভিন্ন জেলাতেও তাপপ্রবাহ বিস্তৃত হয়েছে। এসব অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে এবং ১৪ থেকে ১৭ এপ্রিলের মধ্যে তা ৪১ ডিগ্রি ছাড়িয়ে তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা, যশোর, মেহেরপুর ও রাজশাহীতে তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে।
তীব্র গরমের মাঝেই স্বস্তি এনে দিচ্ছে চলতি বছরের চতুর্থ আংশিক বৃষ্টি বলয়, যা ১৩ এপ্রিল থেকে সক্রিয় হয়েছে। এটি দেশের প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ এলাকায় প্রভাব ফেলতে পারে। সিলেট বিভাগ-এ এ বলয় সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকবে, যেখানে কয়েক দিনে সর্বোচ্চ ১৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগ ও রংপুর বিভাগ-এ মাঝারি এবং চট্টগ্রাম বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগে তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বিকেল বা রাতের দিকে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় দেখা দিতে পারে। এ সময় ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকায় সেখানে তাপপ্রবাহের তীব্রতা অব্যাহত থাকবে। দেশের প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ এলাকায় গরমের দাপট বেশি থাকলেও বৃষ্টি বলয়ের কারণে ১০-১৫ শতাংশ অঞ্চলের কৃষিজমিতে স্বাভাবিকভাবে সেচের সুবিধা মিলতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে জনসাধারণকে তীব্র রোদ এড়িয়ে চলা এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।





